ট্রাম্পের নেতানিয়াহুকে ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলার নিন্দা
ট্রাম্পের নেতানিয়াহুকে ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলার নিন্দা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্পর্কের অবনতির খবরের মধ্যেই গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশংসা করে তাঁকে ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি ভেস্তে দিতে নেতানিয়াহু যেকোনো কিছু করতে পারেন।

ট্রাম্পের মন্তব্য

ওয়াশিংটনে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমান উন্মোচনের পর ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব ভালোভাবে লড়াই করেছে’। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘স্পষ্টতই আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে খুব ভালোভাবে লড়াই করেছি। ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দারুণ। আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী। আর বিবি (বেনিয়ামিন) নেতানিয়াহু একজন “যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী”। তাঁকে সেইভাবেই স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের তাঁকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।’

লেবাননে নৃশংস সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর যখন তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন। আলাদা আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে, তবে তা বেশ নিয়ন্ত্রণ করে চলতে হচ্ছে। ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’–কে বলেন, ‘সম্পর্ক ভালো, তবে আমাদের তাঁকে কিছুটা মানসিকভাবে সচেতন রাখতে হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলের ওপর প্রভাব

ওই অঞ্চলের সামরিক পদক্ষেপগুলোতে, বিশেষ করে লেবাননে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তিনি ইসরায়েলকে প্রভাবিত করতে পারবেন কি না—জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি পারব। আমার প্রতি তাদের (ইসরায়েল সরকার) অনেক শ্রদ্ধা আছে এবং আমি যা বলি, তারা তা-ই করে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে ট্রাম্প এর আগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে এক ফোনালাপে তিনি নেতানিয়াহুর প্রতি বেশ বিরক্তি প্রকাশ করে কথা বলেন। লেবাননে ইসরায়েলের হামলার কারণে ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে, এমন খবর আসার পর ১ জুনের সেই ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে চিৎকার করে কী বলেছিলেন? অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, ‘তুমি তো পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছ। আমি না থাকলে তুমি এত দিনে জেলে থাকতে। আমি তোমার পিঠ বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এসবের কারণে সবাই এখন ইসরায়েলকে ঘৃণা করে।’

মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা

বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে ছড়িয়ে পড়া এক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে।

নতুন এই গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার স্বার্থে দেশের জনগণকে বোঝাতে চাইবেন, তিনি লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন না এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই আরও তীব্র করতে চান। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের শান্তিস্মারকের শর্তাবলি নিয়ে ইসরায়েলের অসন্তুষ্টির কথাও বলা হয়েছে, যা ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের বৃহত্তর লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ

লেবাননে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাণঘাতী হামলার পর গতকাল ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি স্বাক্ষরের দুই দিন পার হওয়ার আগেই আবার লেবাননে ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ায় আলোচনাকে চাপের মুখে ফেলে দিয়েছিল। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর মার্কিন ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার দাবি করেছেন, ইসরায়েল লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা কেবল তখনই হবে ‘যদি হিজবুল্লাহ চুক্তিকে সম্মান জানায় এবং তাদের শত্রুতা বন্ধ করে’। এর আগে গত এপ্রিলেও দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু তখনো ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে গেছে।