আটকে থাকা অর্থের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নাকচ করল ইরান
আটকে থাকা অর্থের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নাকচ করল ইরান

ইরানের দৃঢ় অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন-ইরান চুক্তির আওতায় অবরুদ্ধ তহবিল মুক্ত হলে, সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা সম্পূর্ণ এককভাবে তেহরানই নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের ইরানি রাষ্ট্রদূত আলী বাহরাইনি। ওয়াশিংটনের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতিসংঘের সংবাদদাতা সমিতির এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ইরানই একমাত্র দেশ যারা নিজেদের মুক্ত হওয়া সম্পদের ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

চুক্তির পটভূমি

এর আগে আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিল ছেড়ে দিতে এবং দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। তবে এই তহবিলের ব্যবহার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে শুরুতেই এক ধরণের বাদানুবাদ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন দাবি ও ইরানের প্রত্যাখ্যান

সোমবার (২২ জুন) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের সম্পদ এখনও অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়নি। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই অর্থ অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তও হয়, তবে তা কেবল সয়াবিনের মতো মার্কিন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এই অর্থ কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে ইরানি রাষ্ট্রদূত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের সম্পদের ওপর অধিকার কেবল ইরানেরই থাকবে এবং এর ব্যবহারে অন্য কোনো দেশের শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রভাব ও বিশ্লেষণ

ইরানের এই অবস্থান চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তহবিল ব্যবহারের শর্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব সমাধান না হলে চুক্তি বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে পারে। ইরানি রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, তেহরান নিজের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আপস করতে রাজি নয়।