ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারত: ইউয়ানে লেনদেন, আইসিআইসিআই ব্যাংকের ভূমিকা
ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারত: ইউয়ানে লেনদেন

ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে ফিরেছে ভারত: ইউয়ানে লেনদেনের নতুন অধ্যায়

ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো সম্প্রতি ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু করেছে, তবে এই লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে চীনের মুদ্রা ইউয়ান। রয়টার্সের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলতা ও ভারতের সুযোগ গ্রহণ

একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও রাশিয়ার সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী বেড়ে যাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা। এই সাময়িক শিথিলতার সুযোগটি কাজে লাগিয়েই ভারতের কোম্পানিগুলো পুনরায় ইরানি তেল কেনা শুরু করেছে, যা আন্তর্জাতিক শক্তি বাজারে নতুন গতিশীলতা এনেছে।

ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের বড় অর্ডার

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন প্রায় ৯ বছর পর প্রথমবারের মতো ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। সংস্থাটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল ক্রয় করেছে, যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ২০ কোটি ডলার। এই ক্রয় শুধু ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণেই নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্পর্কেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জাহাজ ও অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া

এছাড়াও, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেল বহনকারী কয়েকটি জাহাজ ভারতের বিভিন্ন বন্দরে নোঙর করেছে। সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে এর মধ্যে অন্তত একটি জাহাজ ইতোমধ্যে তার তেল খালাস করতে সক্ষম হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ইন্ডিয়ান অয়েল ও রিলায়েন্স—উভয় প্রতিষ্ঠানই তাদের অর্থ পরিশোধ করছে আইসিআইসিআই ব্যাংকের সাংহাই শাখার মাধ্যমে, সরাসরি ইউয়ানে। এই অর্থ পরে ইরানি বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা ডলারবিহীন লেনদেনের একটি অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

নীরবতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা

তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে। আইসিআইসিআই ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলো এবং 심지어 ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, যা এই লেনদেনের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা নির্দেশ করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরানি তেলের ওপর থাকা সাময়িক ছাড় আর বাড়ানো হবে না। তার মতে, এই শিথিলতার মেয়াদ আগামী রোববারই শেষ হয়ে যাচ্ছে, যা ভারতের জন্য সময়সীমার একটি চাপ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই ঘটনাটি কেবল ভারত ও ইরানের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কই নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপথও নির্ধারণ করছে। ইউয়ানে লেনদেনের এই প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের মুদ্রার প্রভাব বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতির পরিবর্তনশীলতা অন্যান্য দেশগুলোর জন্য কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তা নিয়েও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শক্তি কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।