ট্রাম্পের হুমকিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১১০.৩৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের মূল্য ১.২৬ ডলার বা ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১৩.৬৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম) মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে তিনি ইরানের রাজধানী তেহরানের ওপর 'ভয়াবহ আঘাত' হানবেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে'। এছাড়াও, তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমাধান না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পাওয়ার পর ইরান যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান না ঘটলে কোনো ধরনের সমঝোতা সম্ভব নয়। তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগকেও নাকচ করে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়, ফলে এর বন্ধ থাকা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকের মূল্যায়ন
বিশিষ্ট বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন, 'ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তেলের বাজারে কেবল চাহিদা ও যোগানের হিসাবই নয়, সময়ের হিসাবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'যদি যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা হয়, তাহলে তেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি এবং জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতির কারণে দাম এখনো উঁচু পর্যায়েই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।'
এই সংকটের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর উপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে, তবে এখনো কোনো ইতিবাচক ফলাফল দেখা যায়নি।



