ট্রাম্পের ইরান হুমকিতে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে
ট্রাম্পের ইরান হুমকিতে তেলের দাম বেড়ে ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে

ট্রাম্পের হুমকিতে বৈশ্বিক তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে অশালীন হুমকির পর বৈশ্বিক তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তবে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকির পরপরই বৈশ্বিক তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে।

এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দামের অবস্থা

এশিয়ার বাজারে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬% বেড়ে ১১০.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ০.৮% বেড়ে ১১২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ তেলের দাম বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ট্রাম্পের সোশাল মিডিয়া পোস্ট ও হুমকির বিবরণ

গত রোববার সোশাল মিডিয়ায় অশালীন ভাষায় একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে লিখেন, মঙ্গলবারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবে। ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস—সব একসাথে, ইরানে। এর মতো কিছু আর হবে না!!! ওই অভিশপ্ত প্রণালি খুলে দাও পাগল বেজন্মার দল, নইলে নরকে বাস করতে হবে—দেখে নিও! আল্লাহর কাছে দোয়া করো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্য ও সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত

কয়েক ঘণ্টা পরে একই প্লাটফর্মে তিনি লেখেন, মঙ্গলবার, রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)! তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, সোমবার একটি চুক্তি হওয়ার ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তবে দ্রুত সমঝোতা না হলে তিনি ‘সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ বিষয় বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, কারণ তেলের সরবরাহ ও দামের উপর এর প্রভাব হতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ট্রাম্পের হুমকি এবং তেলের দাম বৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও জ্বালানি খরচ বাড়াতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে, নতুবা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।