ইরান যুদ্ধে মার্কিন পেট্রোডলার ব্যবস্থার পতনের আশঙ্কা, ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস
জার্মানিভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ডয়চে ব্যাংক একটি চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান আগ্রাসন বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য বা 'পেট্রোডলার' ব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত এক বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে ব্যাংকটি উল্লেখ করেছে যে, এই যুদ্ধ কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে পারে।
পেট্রোডলার ব্যবস্থার স্থায়িত্ব কঠিন পরীক্ষার মুখে
ডয়চে ব্যাংকের গবেষক মল্লিকা সচদেবা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের রিজার্ভ কারেন্সি বা প্রধান সংরক্ষিত মুদ্রা হিসেবে ডলারের যে দাপট, তার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংঘাত পেট্রোডলার ব্যবস্থার স্থায়িত্বকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে। পেট্রোডলার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার সেই ঐতিহাসিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেল বিক্রির একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ডলারকে ব্যবহার করা হয় এবং বিনিময়ে সেই অর্থ পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা হয়।
ডলারের বিকল্প হিসেবে পেট্রো-ইউয়ানের উত্থান
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ওপর এই যুদ্ধ পেট্রোডলারের আধিপত্য ক্ষয়ের জন্য একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। ডলারের বিকল্প হিসেবে বিশ্ববাজারে 'পেট্রো-ইউয়ান' বা চীনা মুদ্রার উত্থানের পথ এই যুদ্ধের মাধ্যমেই প্রশস্ত হতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যদি ডলারের বিকল্প খুঁজতে শুরু করে, তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আর্থিক সক্ষমতার ওপর এক বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দেবে।
এই গবেষণা প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বর্তমান সংঘাত শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা সামরিক নয়, বরং এটি গভীর অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পেট্রোডলার ব্যবস্থার পতন হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস পেতে পারে এবং নতুন আর্থিক শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন বৈশ্বিক বাণিজ্য ও মুদ্রা বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে, যা ভবিষ্যত আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।



