মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কার কারণে তেলের দাম নতুন করে প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত কয়েক দিনের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উচ্চতা।
কূটনৈতিক আলোচনার অভাব ও সরবরাহ সংকট
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে তেলের বাজারে এই নতুন বৃদ্ধি দেখা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ব্যবসায়ীরা যখন আলোচনা করছিলেন, তখন ইরান জানিয়েছে যে তারা আলোচনার কোনো পরিকল্পনা করছে না। এই অবস্থান সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এর পাশাপাশি রাশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দিনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.১৩ ডলার বা ১.১ শতাংশ বেড়ে ১০৩.৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৮ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৪০ ডলার হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তেলের দামের এই পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছে, যদিও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদ এখনও সীমিত। তাদের মতে, নিম্নলিখিত কারণগুলো বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে:
- মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকা
- ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
- জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ক্রমাগত শঙ্কা
- বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাহিদার পরিবর্তন
এই পরিস্থিতিতে, তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর নীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে তেলের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



