হরমুজ প্রণালীতে শিপিং বিঘ্নিত, কুয়েতের তেল উৎপাদন হ্রাসের ঘোষণা
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন মঙ্গলবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে শিপিংয়ে বিঘ্ন ঘটার কারণে তারা তাদের তেল উৎপাদন কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে যে, শিপিং রুটগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় উৎপাদন হ্রাস করতে বাধ্য হয়েছে এবং এই পরিস্থিতিকে ‘একটি ব্যাপক উত্তেজনা যা বৈশ্বিক শক্তির বাজারের স্থিতিশীলতাকে হুমকি দেয়’ বলে বর্ণনা করেছে।
উৎপাদন হ্রাসের কারণ ও প্রভাব
কুয়েত ১০ মার্চ তাদের দৈনিক তেল উৎপাদন ৫০০,০০০ ব্যারেল কমিয়ে দিয়েছে, যা যুদ্ধের আগে ৩০০ লাখ ব্যারেল ছিল। হরমুজ প্রণালী মার্চ মাসের শুরু থেকেই কার্যত বিঘ্নিত হয়েছে, যেখানে সাধারণত প্রতিদিন ২০০ লক্ষ ব্যারেল তেল পারাপার হয়। এই বিঘ্নের ফলে শিপিং খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৈশ্বিক তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর যৌথ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে একটি আঞ্চলিক উত্তেজনা চলমান রয়েছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও অন্তর্ভুক্ত। তেহরান ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হতাহতের ঘটনা, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভবিষ্যত সম্ভাবনা
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আরও জানিয়েছে যে, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ শেষ হলে উৎপাদন ‘আপেক্ষিকভাবে দ্রুত’ পুনরায় শুরু করা যেতে পারে এবং ৩-৪ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ উৎপাদনে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। তবে কোম্পানিটি নতুন উৎপাদন মাত্রা প্রকাশ করেনি, যা বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে।
এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব ফেলছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।



