আইএমএফ প্রতিনিধির বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক, ঋণ কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নীতি আলোচনা
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক, ঋণ কর্মসূচি আলোচনা

আইএমএফ প্রতিনিধির বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একজন প্রতিনিধি মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠকে চলমান ঋণ কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিদর্শনকারী পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যাংকিং খাতের অবস্থা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের পরবর্তী বৈঠকটি মূলত অর্থনৈতিক নীতি এবং ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংস্থাটির একটি মিশন আগামী মাসে ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্ত বৈঠকের পর ঢাকা সফরে আসবে। এই সফরের পর মিশনের প্রতিবেদন আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডে জমা দেওয়া হবে।

আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করেছেন যে, বাংলাদেশের পরবর্তী বৈঠকে প্রধানত নীতি সুদের হার, মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণ কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা

বাংলাদেশ-আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি, ৪৭০ কোটি ডলারের সমন্বয়ে। গত বছর জুন মাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই কর্মসূচি ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এখন পর্যন্ত, বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছে এবং বর্তমানে ১৮৬ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে। তবে, গত বছর ডিসেম্বরে বিতরণের কথা থাকা ঋণের ষষ্ঠ কিস্তিটি এখনও বিতরণ করা হয়নি। এই বিলম্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং আশা করা হচ্ছে যে, আগামী মিশন সফরের পর এই বিষয়ে স্পষ্টতা আসবে।

এই বৈঠকটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইএমএফের সঙ্গে এই সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।