মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা গভীর হওয়ায় সোমবার (২ মার্চ) বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন এবং ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণের প্রভাব সরাসরি মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর পড়েছে, যার ফলে তেলের দামের পাশাপাশি স্বর্ণের দামও বেড়েছে।
স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি ও পরিসংখ্যান
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ১.৩৭% বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,৩৪৯.৪৪ ডলারে পৌঁছেছে। এই দাম চার সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ২.২১% বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫,৩৬২.৬০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব
রোববার ইসরাইল তেহরানে নতুন করে হামলা চালায় এবং এর জবাবে ইরান আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে। এই ঘটনার একদিন আগে খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, "এই সংঘাতের আগের উত্তেজনার তুলনায় এবার উভয় পক্ষেরই উত্তেজনা আরও বাড়ানোর যথেষ্ট প্রণোদনা রয়েছে। যা কয়েক দিনের বেশি সময় ধরে বিশৃঙ্খল, অনিশ্চিত এবং অস্থির পরিবেশ তৈরি করতে পারে।"
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এদিকে মার্কিন ডলার সূচক ০.২৭% বেড়েছে, ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা ধাতুটির দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা সীমিত করেছে। তবে জে পি মরগান ও ব্যাংক অব আমেরিকার মতামত অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম ৬,০০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ স্তর ছুঁতে পারে।
- স্পট গোল্ডের দাম ১.৩৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।
- মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ২.২১% বেড়েছে।
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।
- বিশ্লেষকরা অনিশ্চয়তা ও অস্থির পরিবেশের পূর্বাভাস দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দাম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



