পৃথিবীর আধুনিক ইতিহাসের অনেক বড় মোড় ঘুরেছে তেলকে ঘিরে। মাটির নিচের কালো এই তরল শুধু জ্বালানি নয়; এটি শক্তি, অর্থনীতি, সাম্রাজ্য আর যুদ্ধের গল্পও। প্রথম বাণিজ্যিক কূপ খনন থেকে জন ডি রকফেলারের উত্থান, বাকুর তেলজ্বর, দুই বিশ্বযুদ্ধে জ্বালানির লড়াই, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির উত্থান, ১৯৫৩ সালের ইরান অভ্যুত্থান, কুয়েতে ইরাকি আগ্রাসন থেকে আজকের ভূরাজনীতি—সবকিছুর কেন্দ্রে আছে তেল।
তেলের উত্থান ও বৈশ্বিক প্রভাব
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পেনসিলভানিয়ায় প্রথম বাণিজ্যিক তেলকূপ খননের পর থেকেই তেলের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। জন ডি রকফেলার স্ট্যান্ডার্ড অয়েল প্রতিষ্ঠা করে তেল শিল্পে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেন। অন্যদিকে, আজারবাইজানের বাকু অঞ্চলে তেলজ্বর শুরু হলে তা বিশ্ববাজারে নতুন মাত্রা যোগ করে।
যুদ্ধ ও তেলের সম্পর্ক
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তেল ছিল একটি কৌশলগত সম্পদ। জার্মানির তেলের অভাব তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বিশাল মজুত আবিষ্কৃত হলে এই অঞ্চল বিশ্বশক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৯৫৩ সালে ইরানে মার্কিন-ব্রিটিশ অভ্যুত্থান এবং ১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকি আগ্রাসন তেলের জন্যই সংঘটিত হয়েছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বর্তমান বিশ্বেও তেল ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ওপেকের সিদ্ধান্ত সবই তেলের দাম ও সরবরাহকে প্রভাবিত করে। 'তেলের গল্প' সিরিজে আমরা এই সম্পদের ইতিহাস ও তার বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব। বিস্তারিত পড়ুন...



