আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অস্থিরতা অব্যাহত
তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, যুদ্ধবিরতিতেও বাজার অস্থির

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অস্থিরতা অব্যাহত

আন্তর্জাতিক বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা সত্ত্বেও। ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও তেলের দাম কমেনি, বরং উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ও বাজারের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে। এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধও অব্যাহত থাকবে। বুধবার যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তার কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন, যাতে ইরান নতুন প্রস্তাব দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়।

তবে যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণার আগেই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও, শেষ পর্যন্ত এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে, ডো জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ২৯৩ পয়েন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে লেনদেন শেষ করে, যদিও একসময় এটি প্রায় ৪০০ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়েছিল। এছাড়া, প্রযুক্তিনির্ভর নাসদাক কম্পোজিট সূচকও ০.৬ শতাংশ কমেছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তেলের বাজারে অস্থিরতা ও মূল্য বৃদ্ধি

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দিনের শুরুতে ৯৫ ডলারের নিচে থাকলেও, পরে তা দ্রুত বেড়ে প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। শেষ পর্যন্ত, প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ৯৮.৪৮ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ৩.১ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অনিশ্চয়তা কাটেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যদিও যুদ্ধ শুরুর সময় ওয়াল স্ট্রিটে যে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গিয়েছিল, এবার তার তুলনায় পরিবর্তন কিছুটা কম ছিল। তারপরও, বাজার বিশ্লেষকরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি, এবং এই অনিশ্চয়তাই বাজার ও তেলের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তারা আরও যোগ করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি বাজারকে অস্থির রাখছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সর্বোপরি, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির মতো ইতিবাচক খবরও বাজারকে স্থিতিশীল করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।