মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় স্বর্ণের দরপতন, এক সপ্তাহে সর্বনিম্ন স্তরে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) স্বর্ণের দর এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই দরপতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও এর প্রভাবে সৃষ্ট বাজার অস্থিরতা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে মার্কিন ডলার ও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ইরানের একটি কার্গো জাহাজ আটক করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর এর জবাবে পালটা পদক্ষেপের সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। এই উত্তেজনা শান্তি চুক্তি নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে, যা বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।
স্বর্ণের দরের হালনাগাদ তথ্য
বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ২৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের মূল্য ০ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮০৪ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে, জুন মাসে সরবরাহের জন্য ইউএস গোল্ড ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮২৪ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। এই সংখ্যাগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের চাহিদা ও মূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
সিটি ইনডেক্স ও ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও স্পষ্টতই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে আমাদের স্বর্ণের দাম সামান্য নিম্নমুখী হয়েছে। এর পাশাপাশি তেলের দামে আরেকটি বড় লাফের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, এতে মার্কিন ডলার ও বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি পেতে পারে।" তার মতে, এই সংঘাতের ফলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে, যা সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি রাখতে বাধ্য করতে পারে।
স্বর্ণের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
স্বর্ণকে ঐতিহ্যগতভাবে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, বিশ্বব্যাপী সুদের হার বেশি থাকলে এই মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে, স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে, যেহেতু বাজার অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।



