প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বেড়েছে।
গত চার বছরের বাজেট পর্যালোচনা
গত চার অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ৪১৫ কোটি টাকায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ হয় ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা।
বরাদ্দের ব্যবহার
বাজেট নথি অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতীয় প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া দেশে ও বিদেশে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অপারেশন কার্যক্রমের পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্নেল বা সমমান এবং তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রমও এই বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্যান্য কার্যক্রম
বাজেটে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদ বাস্তবায়ন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও পরিচালনায়ও এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর চলমান আধুনিকায়ন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।



