পাকিস্তানের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত বৈজ্ঞানিক গবেষকদের বেতন গত পাঁচ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটির অর্থ বিভাগ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও পিএইচডি ও অন্যান্য পেশাগত ভাতাসহ তাদের বেতন-ভাতায় কোনো বৃদ্ধি না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না বাড়ায় গবেষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশটির মেধাবী গবেষকরা বিদেশে ভালো সুযোগের সন্ধানে চলে যেতে পারেন—এমন ‘ব্রেইন ড্রেইন’-এর শঙ্কাও জোরালো হচ্ছে। খবর দ্যা এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর।
গবেষকদের সংকট
গবেষকদের অভিযোগ, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে তারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বাহ্যিক অর্থায়নভিত্তিক প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছেন। এতে তাদের মূল গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে এক গবেষক বলেন, জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে এখন আমাদের উচ্চশিক্ষা কমিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রকল্প সংগ্রহের চেষ্টা করতে হয়। এতে মূল গবেষণায় সময় কম দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, কিন্তু আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই।
টেনিউর ট্র্যাক সিস্টেম
পাকিস্তানে উচ্চমানের গবেষক ও শিক্ষাবিদদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করতে সাবেক এইচইসি চেয়ারম্যান ও খ্যাতনামা বিজ্ঞানী আতাউর রহমান ‘টেনিউর ট্র্যাক সিস্টেম’ (টিটিএস) চালু করেছিলেন। এই ব্যবস্থার অধিকাংশ শিক্ষক ও গবেষক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে দীর্ঘদিন বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় অনেক গবেষক ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে অন্য পেশা বা বিদেশে চলে গেছেন। বর্তমানে টিটিএস ব্যবস্থায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ গবেষক কর্মরত রয়েছেন।
বেতন কাঠামোর অবনতি
সূত্রগুলোর মতে, টিটিএস চালুর সময় এই ব্যবস্থার বেতন ছিল বেসিক পে স্কেল কাঠামোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কারণ টিটিএস শিক্ষকদের জন্য কঠোর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা ছিল এবং প্রতি তিন বছর পর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তাদের কাজ পর্যালোচনা করা হতো। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে বেতন সমন্বয় না হওয়ায় এখন বিপিএসভুক্ত শিক্ষকদের তুলনায় টিটিএস গবেষকদের আয় অনেক কমে গেছে। চলতি বছরের মার্চে পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিশনের একটি টাস্কফোর্স টিটিএস বেতনকে পাকিস্তান ইন্সটিটিউশন অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকস-এর বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দেওয়ার সুপারিশ করে।
অর্থ বিভাগের অনাগ্রহ
পরে পাকিস্তানের সিনেটের অর্থবিষয়ক স্থায়ী কমিটি এ সুপারিশ অনুমোদন করে এবং অর্থ বিভাগকে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা কমিশনও আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। তবে অর্থ বিভাগ এখনো এ প্রস্তাব গ্রহণে অনাগ্রহী বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একজন বিপিএস অধ্যাপক মাসে প্রায় ৫ লাখ রুপি আয় করেন, যেখানে একজন টিটিএস অধ্যাপক কর পরিশোধের পর পান প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপি। একইভাবে বিপিএস সহযোগী অধ্যাপক পান প্রায় ৪ লাখ রুপি, আর টিটিএস সহযোগী অধ্যাপক পান প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি। বিপিএস সহকারী অধ্যাপকের মাসিক আয় প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার রুপি হলেও টিটিএস সহকারী অধ্যাপক কর পরিশোধের পর পান প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি।
করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ
এদিকে, ইউনিভার্সিটি অব করাচী-এর ইনস্টিটিউট অব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির বেশ কয়েকজন গবেষক টিটিএস কাঠামোর অধীনে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা চালিয়ে গেলেও তাদের বেতন পাঁচ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পাকিস্তানের গবেষণা খাত আরও বড় মেধা সংকটের মুখে পড়তে পারে।



