লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সীমান্তের কাছে লেবাননের ভূখণ্ডে গ্লাইফোসেট হার্বিসাইড স্প্রে করার অভিযোগ জাতিসংঘে দায়ের করেছে। রবিবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ফেব্রুয়ারির এই ঘটনা ঘটে ২ মার্চ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরুর এক মাস আগে।
মাটি পরীক্ষায় প্রমাণ
মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত গ্রাম আইতা আল-শাব, রাস নাকুরা ও ধায়রার মাটির নমুনা পরীক্ষায় ‘গ্লাইফোসেটের উচ্চমাত্রার ব্যবহার’ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই মাত্রা কৃষি এলাকায় সাধারণ ব্যবহারের পর স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ‘অনেক বেশি’। অভিযোগটি লেবাননের সরকার-সমর্থিত জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাউন্সিলের (সিএনআরএস) একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে।
জাতিসংঘের ভূমিকা
সেই সময় লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন জানিয়েছিল, ইসরায়েল তাদের সীমান্তের কাছে একটি ‘অ-বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ’ স্প্রে করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল এবং শান্তিরক্ষীদের আশ্রয় নিতে সতর্ক করেছিল। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই স্প্রেকে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছিলেন।
অন্যান্য অভিযোগ
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, লেবানন নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ইসরায়েলের চলমান হামলার বিষয়েও অভিযোগ জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘লেবাননের সেনাবাহিনীর একটি যানবাহনকে লক্ষ্য করে হামলা’, যাতে এই মাসের শুরুতে ডিউটিতে থাকা দুই অফিসার ও একজন সৈন্য নিহত হয়।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শত্রুতা শেষ করার লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েলের লেবাননের সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সরাসরি ক্ষুন্ন করে’। এপ্রিলে ইসরায়েল ও লেবানন ওয়াশিংটনে শত্রুতা বন্ধের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সরাসরি আলোচনা শুরু করে, এবং এই মাসের শেষের দিকে আরেকটি দফা আলোচনার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। গত মাসে দুই দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা পেন্টাগনে নিরাপত্তা আলোচনাও করেন।



