দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবহরে হামলায় ৫ ত্রাণকর্মী নিহত, তদন্ত দাবি জাতিসংঘের
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবহরে হামলায় ৫ ত্রাণকর্মী নিহত

দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে মানবিক সহায়তাবাহী একটি বহরে সশস্ত্র হামলায় পাঁচ ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ।

হামলার বিবরণ

মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, সোমবার জংলেই অঙ্গরাজ্যের ডুক কাউন্টিতে স্থানীয় অংশীদার সংস্থার পরিচালিত একটি ত্রাণবহরে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন ত্রাণকর্মী নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত বা আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া

ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হামলার সময় বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তাবাহী হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ত্রাণকর্মীদের মৃত্যুর সংখ্যা

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ জন ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

হামলার শিকার সংস্থার বক্তব্য

হামলার শিকার বহর পরিচালনাকারী জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ) জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম থেকে পাজুত এলাকায় ফিরছিলেন। ফেরার পথেই তাদের বহরের ওপর হামলা চালানো হয়। সংস্থাটি এ ঘটনাকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দক্ষিণ সুদানের মানবিক সংকট

জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশনের (ইউএনএমআইএসএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহাত্মক সংঘাত ও সহিংসতার কারণে দক্ষিণ সুদান দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকটে রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, চলমান এই পরিস্থিতি দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।