ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বজ্রপাতের তাণ্ডবে অন্তত আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই নারী এবং মাত্র দুই বছর বয়সি এক শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের ছয়টি জেলায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হাজারিবাগে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে হাজারিবাগ জেলায়। সেখানে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পালামু, লোহরদাগা, রামগড়, পশ্চিম সিংভূম এবং গোড্ডা জেলায় একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত বেড়েছে।
আবহাওয়ার বৈরী পরিস্থিতি
গত কয়েকদিন ধরে আকাশে ঘন মেঘ, দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। আবহাওয়ার এই বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেই একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা সামনে এলো। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ খোলা মাঠে কাজ করার সময় অথবা বাড়ির বাইরে অবস্থানকালে বজ্রপাতের শিকার হন। হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর সুযোগ পাননি।
সরকারি সহায়তার আশ্বাস
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিন ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। সেই কারণে সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে কিংবা জলাশয়ের পাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শোকের ছায়া ও সতর্কবার্তা
প্রাকৃতিক দুর্যোগে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায়। বিশেষ করে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এলাকাজুড়ে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বজ্রপাত সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা আরও কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। প্রশাসনের দাবি, সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। বর্ষার শুরুতেই বজ্রপাতের এই ভয়াবহতা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ঝাড়খণ্ডজুড়ে। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।



