দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে ত্রাণকর্মীদের বহরে সশস্ত্র হামলায় পাঁচ মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এছাড়াও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
হামলার বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোমবার জংলেই অঙ্গরাজ্যের ডুক কাউন্টিতে স্থানীয় অংশীদার সংস্থার পরিচালিত একটি ত্রাণবহর অতর্কিত হামলার শিকার হয়। এতে পাঁচ ত্রাণকর্মী নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। এছাড়া কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত বা আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তিনি জানান, হামলার শিকার বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত ছিল।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন
তিনি বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
হামলার শিকার বহরের পরিচালনাকারী জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ) জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম থেকে পাজুত এলাকায় ফিরছিলেন। পথেই বহরটির ওপর হামলা চালানো হয়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা।
সহিংসতার ক্রমবৃদ্ধি
এদিকে জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের মিশন (ইউএনএমআইএসএস) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দক্ষিণ সুদানে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দক্ষিণ সুদান ধারাবাহিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।



