সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে গত সোমবার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আহমাদু আল আমিনু লুকে নিয়োগ দিয়েছেন। এর আগে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ফায়ে তাঁর রাজনৈতিক গুরু ও প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করেন এবং সরকার ভেঙে দেন, যা দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর পটভূমি
আহমাদু আল আমিনু লু একজন প্রবীণ অর্থনীতিবিদ। তিনি পূর্বে 'সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস'-এ কর্মরত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ফায়ের দাবি, দেশের চরম অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণের বোঝা কাটিয়ে ওঠার জন্য লু-এর মতো দক্ষ অর্থনীতিবিদের প্রয়োজন ছিল। নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম বিবৃতিতে লু বলেন, 'আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হলেও সেনেগাল একটি নিরাপদ ও টেকসই দেশ এবং এটি বজায় থাকবে।' তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে এটি নীতির কোনো বদল নয়, বরং কাজের পদ্ধতির পরিবর্তন মাত্র।
অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণের বোঝা
বর্তমানে সেনেগালের ঋণের পরিমাণ মোট জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ফায়ে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সোনকো ক্ষমতায় আসার পর আগের সরকারের বিরুদ্ধে প্রকৃত ঋণের তথ্য গোপন করার অভিযোগ তোলেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৮০ কোটি ডলারের একটি সহায়তা কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট ফায়ে এখন আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে চান, অন্যদিকে সোনকো দেশের অভ্যন্তরেই সার্বভৌম অর্থনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিলেন। এই মতবিরোধই মূলত দুই নেতার দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।
স্পিকার পদে লড়াই
এদিকে মঙ্গলবার সেনেগালের পার্লামেন্টে সোনকোকে স্পিকার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না— তা নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। গত রোববার স্পিকার এবং সোনকোর ঘনিষ্ঠ মিত্র এল মালিক এনদিয়ায়ে পদত্যাগ করায় এই পথ উন্মুক্ত হয়। ১৬৫ আসনের পার্লামেন্টে সোনকোর দল 'পাস্তেফ'-এর ১৩০ জন আইনপ্রণেতা থাকায় তাঁর স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে বিরোধী দলগুলো একে একটি 'প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যুত্থান' বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র বিরোধিতা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত
প্রধান বিরোধী জোটের নেতা আয়েসাতা তাল সাল দাবি করেন, সোনকোর সরাসরি স্পিকার পদের জন্য দাঁড়ানো অবৈধ এবং এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ফায়ের উচিত সাংবিধানিক কাউন্সিলের দ্বারস্থ হওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকার নির্বাচিত হলে সোনকো পার্লামেন্টে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ফায়ের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। এছাড়া সম্প্রতি নির্বাচনী আইন সংশোধন করায় ২০২৯ সালের পরবর্তী নির্বাচনে সোনকোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি বাধাও কেটে গেছে। এর ফলে একসময়ের দুই রাজনৈতিক মিত্র আগামীতে একে অপরের বিরুদ্ধে শীর্ষ পদের লড়াইয়ে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



