ইহুদিদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শাভুওত উপলক্ষে জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালনের চেষ্টা করেছে একদল ইহুদি। এই ঘটনায় ইসরায়েলি পুলিশ ১৩ জন ইহুদি তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পবিত্র চত্বরে প্রবেশ করে এবং তাদের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করার জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করে।
পশু উৎসর্গের পরিবর্তে রুটি
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বের ঘটনাগুলোর মতো এবার কোনো পশু উৎসর্গের চেষ্টা করা হয়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, এবারের সন্দেহভাজনরা পশুর পরিবর্তে সাথে করে বড় বড় পাউরুটি বা রুটি নিয়ে এসেছিলেন। ইহুদিদের কৃষিভিত্তিক ও ফসল কাটার উৎসব শাভুওত-এ সদ্য ঘরে তোলা গম থেকে তৈরি রুটি উৎসর্গ করার একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় রীতি রয়েছে।
দুই হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা
প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই স্থানে ইহুদিদের দুটি মন্দির বা টেম্পল রোমানরা ধ্বংস করার পর থেকে মূলধারার ইহুদিদের মধ্যে এই ধরনের কোরবানি বা উৎসর্গ করার কোনো ধর্মীয় অনুশীলন নেই। তবে প্রতি বছরই কিছু কট্টরপন্থী ইহুদি গোষ্ঠী এই প্রাচীন প্রথাটি পুনরায় চালু করার উদ্দেশ্যে এখানে প্রবেশের চেষ্টা করে থাকে। মূলত আল-আকসা মসজিদ এবং ডোম অব দ্য রকের জায়গায় তৃতীয় একটি ইহুদি মন্দির নির্মাণের স্বপ্ন দেখা কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সাথে এই তরুণরা যুক্ত বলে জানা গেছে।
পূর্ববর্তী গ্রেপ্তার
এই ঘটনার মাত্র এক মাস আগে এবং মে মাসের শুরুর দিকেও আল-আকসা প্রাঙ্গণে ছাগল এনে কোরবানি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে যথাক্রমে ১৪ জন এবং ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং ইহুদিদের সবচেয়ে পবিত্র এই ঐতিহাসিক স্থানটি দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে অমুসলিম বা ইহুদিদের জন্য প্রকাশ্যে প্রার্থনা এবং কোনো ধরনের পশু বা সামগ্রী উৎসর্গ করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভির দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ইহুদিদের প্রার্থনার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে উস্কানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন যে এই বিতর্কিত চত্বরের দীর্ঘদিনের স্থিতাবস্থা বা নিয়মের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। পবিত্র স্থানে এই ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ইসরায়েলের মূলধারার ধর্মীয় নেতারাও একমত নন।
অনেক ইহুদি ধর্মীয় আইনের অভিভাবক মনে করেন, সাধারণ ইহুদিদের জন্য এই পবিত্র চত্বরে পা রাখাই আইনত নিষিদ্ধ। ওয়েস্টার্ন ওয়ালের প্রধান রাব্বি শ্মুয়েল রাবিনোভিচ ইতোপূর্বে এই বিষয়ে পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে আল-আকসা প্রাঙ্গণে কোনো কিছু উৎসর্গ করার এই প্রচেষ্টা ইসরায়েলের প্রধান রাব্বিনেটের (সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ) আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং বেআইনি। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।



