ভারতের লাদাখের লেহ এলাকার কাছে পার্বত্য অঞ্চলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ২০ মে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুরনো 'চিতা' মডেলের।
দুর্ঘটনায় কারা ছিলেন?
দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটিতে ছিলেন তিনজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, একজন মেজর ও মেজর জেনারেল শচীন মেহতা। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও মেজর পাইলট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, আর মেজর জেনারেল যাত্রী ছিলেন। ভাগ্যক্রমে তারা সবাই প্রাণে বেঁচে গেছেন, তবে তিনজনই আহত হয়েছেন।
ভাইরাল সেলফি
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, দুর্ঘটনার পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের পাশে বসে তিন কর্মকর্তার একটি সেলফি। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিতে দেখা যায়, তারা পাথরের ওপর বসে আছেন এবং পেছনে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এই বেঁচে যাওয়াকে অলৌকিক বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুরনো চিতা হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্বেগ
১৯৭০-এর দশকে তৈরি চিতা হেলিকপ্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উচ্চ পাহাড়ি ও সিয়াচেনের মতো কঠিন এলাকায় ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু বারবার দুর্ঘটনার কারণে এই বহরের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। এর আগেও একাধিকবার চিতা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় এখনো চিতা কার্যকর হলেও এর পুরনো প্রযুক্তির কারণে ঝুঁকি অনেক বেশি।
আধুনিকায়নের পদক্ষেপ
এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ধাপে ধাপে চিতা হেলিকপ্টার বাতিল করে দেশীয় প্রযুক্তির নতুন হালকা ইউটিলিটি হেলিকপ্টার (এলইউএইচ) ব্যবহার শুরু করছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড তৈরি এই লুহ হেলিকপ্টার ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অপারেশন চালাতে সক্ষম। ঘটনাটি আবারও ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুরনো হেলিকপ্টার বহরের নিরাপত্তা ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা তুলে ধরেছে।



