পানির অভাবে নাজেহাল ভারতের পাঞ্জাবের নেহের বস্তির ৪০০ পরিবার
পানির অভাবে নাজেহাল পাঞ্জাবের নেহের বস্তির ৪০০ পরিবার

কাছেই বয়ে গেছে দুন্নেকে খাল, অথচ সেখানে পানির এক ফোঁটাও নেই। ভারতের পাঞ্জাবের মোগা জেলার এই নেহের বস্তিতে বসবাসকারী প্রায় ৪০০ পরিবারের গত ৩০ বছরের জীবন কেটে যাচ্ছে প্রতি ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার করে। প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে পৌর করপোরেশনের পাঠানো পানির ট্যাংকার কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে বয়ে আনা পানিই এখন তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।

স্থায়ী পানির সংযোগের দাবি

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত তিন দশকে কোনও সরকারই এই বস্তিতে স্থায়ী পানির সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি। ফলে নিরুপায় হয়ে তাদের তাকিয়ে থাকতে হয় সরকারি ট্যাংকারের দিকে। আর তীব্র গরমে ট্যাংকার আসতে দেরি হলে হাতগাড়ি নিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কোনও গুরুদুয়ারা বা সরকারি কল থেকে পানি আনতে যান তারা। তীব্র দাবদাহে এই সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে।

গোসল ছাড়াই কাটছে দিন

বস্তির নারীরা জানান, পানির অভাবে দিনের পর দিন গোসল ছাড়াই কেটে যায় তাদের। এমনকি শিশুরা অনেক সময় গোসল না করেই স্কুলে চলে যায়। কাপড় ধোয়ার মতো পর্যাপ্ত পানিও তাদের কাছে থাকে না। এই বস্তির বাসিন্দাদের আধার কার্ড, ভোটার আইডিসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় নাগরিক নথিপত্র রয়েছে এবং তারা প্রতিটি নির্বাচনে ভোটও দেন। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক নেতা বা সরকারগুলোর অবহেলায় আজও একটি স্থায়ী পানির লাইন মেলেনি এখানে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া

সুনীতা নামের এক নারী বলেন, ট্যাংকারের অপারেটররা যে পানি দেয়, বাধ্য হয়ে আমাদের সেটাই পান করতে হয়, কারণ আমাদের আর কোনও উপায় নেই। আরেক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, গরিবের কথা কেউ শোনে না। তারা জানান, অনেক প্রবীণ মানুষ তাদের জীবনের ৪০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে এই একই কষ্ট সহ্য করে আসছেন। অথচ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটিতে যদি কর্তৃপক্ষ পানি ছাড়ত, তবে গ্রীষ্মের এই দিনে অন্তত কিছুটা স্বস্তি মিলত। কিন্তু বর্তমানে সেটি সম্পূর্ণ শুকনো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ