৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পুড়ছে ভারত, দাবদাহে বিপর্যস্ত উত্তর ও মধ্যাঞ্চল
৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়ছে ভারত, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পুড়ছে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও মধ্য প্রদেশের একাধিক এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও তা পৌঁছে গেছে ৪৮ ডিগ্রির কাছাকাছি। প্রচণ্ড গরমে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। দুপুরের পর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, আর হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

তাপমাত্রার রেকর্ড ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই। বুধবার (২০ মে) দেশের সবচেয়ে উষ্ণ এলাকা ছিল উত্তর প্রদেশের বান্দা জেলা। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে প্রায় ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক গরমে পুড়ছে পুরো অঞ্চল। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

রাজধানী দিল্লির অবস্থা

রাজধানী দিল্লিতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির ওপরে পৌঁছেছে। অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুতের চাহিদা নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীতে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজস্থান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা

রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর, জয়সলমীর, বিকানের ও ফালোদি অঞ্চলেও তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির আশপাশে রয়েছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। হরিয়ানার রোহতকসহ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই দুপুরের সময় কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাহাড়ি এলাকায়ও তাপপ্রবাহ

অস্বাভাবিক গরমের প্রভাব পড়েছে পাহাড়ি এলাকাতেও। সাধারণত শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত হিমাচল প্রদেশের সিমলায়ও এখন গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।

তাপপ্রবাহের কারণ ও বিশেষজ্ঞ মতামত

আবহাওয়াবিদদের মতে, এবারের তাপপ্রবাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। এর পেছনে কাজ করছে বৃষ্টির ঘাটতি, শুকনো গরম বাতাস, দ্রুত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আবহাওয়াগত পরিবর্তনের প্রভাবও ভারতীয় উপমহাদেশে পড়ছে। গবেষকদের একাংশ বলছেন, পরিবেশ ধ্বংসের কারণেও উত্তর ভারতের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। বনভূমি কমে যাওয়া, নদী ও জলাশয়ের পানি হ্রাস, অতিরিক্ত খনন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মাটির আর্দ্রতা কমছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাপমাত্রার ওপর।

পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি

এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও গরম ও অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে। কলকাতায় রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। তবে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

চিকিৎসকদের পরামর্শ

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা পোশাক ব্যবহার এবং দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস

আবহাওয়া বিভাগ আশঙ্কা করছে, দ্রুত বৃষ্টি না হলে উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই তীব্র দাবদাহ আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।