কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট এলাকায় বুলডোজার অভিযান ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধের প্রতিবাদে হাজারো মানুষ রোববার দুপুরে বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে একটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাস ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজান ও নামাজ সংক্রান্ত প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই চাপা উত্তেজনা চলছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ
রোববার দুপুরে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট এলাকায় বড় জমায়েত হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশ, দ্রুত প্রতিরোধ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক ছাড়ার নির্দেশ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পালটা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। সংঘর্ষের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাস ভাঙচুর করা হয় এবং এর কাচ ভেঙে যায়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনার জেরে গোটা পার্ক সার্কাস এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। পরে অতিরিক্ত বাহিনী এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন। বর্তমানে সেভেন পয়েন্ট মোড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে টহল দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যদিও মূল রাস্তা থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবু ভেতরের কিছু এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বিরোধী মহলের অভিযোগ, নতুন সরকারের কঠোর প্রশাসনিক অবস্থান সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পার্ক সার্কাসের ঘটনার পর কলকাতার বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসন চাইছে পরিস্থিতি যাতে আর না ছড়ায়। তবে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে এখনও উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা স্পষ্ট।



