মঙ্গোলিয়ায় ফিরল চুরি হওয়া ২৯টি ডাইনোসরের জীবাশ্ম
মঙ্গোলিয়ায় ফিরল চুরি হওয়া ২৯টি ডাইনোসরের জীবাশ্ম

ডাইনোসরের ২৯টি জীবাশ্মের একটি বড় সেট এখন রাজধানী উলানবাটরে পৌঁছেছে। মঙ্গোলিয়ার নতুন জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ও সুসংরক্ষিত ডাইনোসরের জীবাশ্ম মঙ্গোলিয়ায় রয়েছে। তবে এই অমূল্য প্রাগৈতিহাসিক সম্পদগুলো শুধু বিজ্ঞানীদেরই আকর্ষণ করে না, বরং এর ওপর দীর্ঘকাল ধরে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক কালোবাজারি চোরাকারবারিদের।

এই চোরাকারবারিরা নিয়মিত মঙ্গোলিয়ার প্রাচীন ঐতিহ্য চুরি করে আসছিল। ফলে সরকার ও বিজ্ঞানীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। অবশেষে এক আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে চুরি হওয়া সম্পদের কিছু অংশ প্রায় ২০ বছর পর মঙ্গোলিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই সংগ্রহে বিখ্যাত টাইরানোসরাস রেক্সের অত্যন্ত বিরল এক আত্মীয় ডাইনোসরের অর্ধেক অক্ষত একটি জীবাশ্ম রয়েছে।

চোরাচালানের ইতিহাস

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে উলানবাটর পুলিশের মুখপাত্র ডি মুনখখুইয়াগ জানান, চোরাকারবারিরা ২০০৬ সালে কেবল বেশি মুনাফা লাভের আশায় এই জীবাশ্মগুলো দেশ থেকে পাচার করেছিল। এরপর ২০১৩ সালে ফ্রান্সের শুল্ক কর্মকর্তারা প্রথম এই চুরির কয়েকটি নমুনা ধরতে পারেন। পরবর্তী দুই বছর ধরে ফ্রান্স ও মঙ্গোলিয়া সরকার আন্তর্জাতিক অবৈধ সম্পদ পাচার আইনের অধীন এই জীবাশ্মগুলো উদ্ধার ও ফেরত আনার জন্য যৌথভাবে কাজ করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যাবর্তন ও গুরুত্ব

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের প্যারিসে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জীবাশ্মগুলো মঙ্গোলিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই বিভিন্ন ডাইনোসরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিজ্ঞানীরা জানান, এই সংগ্রহে থেরোপড, অর্নিথোমিমোসর ও হ্যাড্রোসর প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্মের বিভিন্ন অংশ রয়েছে। আজ থেকে প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত কোটি বছর আগে, অর্থাৎ ‘লেট ক্রিটেশিয়াস’ যুগে এই ডাইনোসরগুলো বর্তমান মঙ্গোলিয়ার বিখ্যাত গোবি মরুভূমি অঞ্চলে ঘুরে বেড়াত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমানে মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমি অঞ্চলটি প্রচণ্ড শুষ্ক ও ঠান্ডা হলেও আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে পরিস্থিতি এমন ছিল না। প্রাচীনকালে এটি ছিল একটি আর্দ্র ও সবুজ প্লাবনভূমি, যা ঘন বনজঙ্গল ও অসংখ্য নদীনালা দিয়ে ঘেরা ছিল। আর সেই আমলের এই অঞ্চলের অবিসংবাদিত শীর্ষ শিকারি বা রাজা ছিল এই টি. বাটার। এরা সাধারণত অ্যাঙ্কাইলোসরিডের মতো বিশাল আকৃতির ডাইনোসরদের শিকার করে বেঁচে থাকত। একটি পূর্ণবয়স্ক টি. বাটার সহজেই ৩৩ ফুটের বেশি লম্বা, প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও ৫ টনের বেশি ওজনের হতে পারত।

টারবোসরাস বাটার: এশিয়ার টি-রেক্স

উদ্ধার হওয়া এই জীবাশ্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো টারবোসরাস বাটার (T. bataar) প্রজাতির একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম। যার অর্ধেকের বেশি অংশ সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। ডাইনোসরের অন্যান্য অনেক প্রজাতির মতো এই টি. বাটারের জীবাশ্মও কেবল মঙ্গোলিয়া ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল খুঁড়ে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি এখনো একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বা আলাদা প্রজাতি হিসেবেই পরিচিত, তবে কিছু জীবাশ্মবিদ দাবি করেন, এই টি. বাটার দেখতে টি. রেক্সের এতটাই কাছাকাছি যে এটিকে উত্তর আমেরিকার টাইরানোসরাস ডাইনোসরদেরই একটি এশীয় রূপ বলা যেতে পারে।

ভবিষ্যৎ প্রদর্শনী

চুরি যাওয়া অমূল্য এই সম্পদগুলো অবশেষে নিজ দেশে ফিরে এসেছে। এখন মঙ্গোলিয়ার জাদুঘরের জীবাশ্মবিদেরা জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য এগুলো উন্মোচন করবেন। তবে এর আগে জীবাশ্মগুলোর একটি সঠিক তালিকা তৈরি করা হবে ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সেগুলোকে নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করা হবে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘরের পরিচালক মানচুক নুরামখান তাঁর আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ডাইনোসরের জীবাশ্মগুলো আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ ও ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এখন থেকে আমাদের শিশু ও তরুণ প্রজন্ম মঙ্গোলিয়ার ডাইনোসর যুগের এই প্রাচীন ঐতিহ্য সরাসরি দেখার এবং তা থেকে অনেক নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাবে।’