কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানী সৈকতের কাছে সমুদ্রে গোসলে নেমে মোহাম্মদ সায়েম (২২) নামের এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওই সৈকতে গোসলে নামেন সায়েম। দমকল, লাইফগার্ড, বিচ কর্মীসহ স্থানীয় জেলেরা সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও সায়েমের সন্ধান পাননি।
ঘটনার বিবরণ
উত্তাল সাগরে ঢেউয়ের ধাক্কায় সায়েম নিখোঁজ হলেও অপরজন আরমান প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। নিখোঁজ মো. সায়েম চট্টগ্রামের হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকার মোহাম্মদ ইকবালের ছেলে। প্রাণে রক্ষা পাওয়া মো. আরমানের বাড়িও হাটহাজারীতে। সায়েমের বন্ধু আরমান জানান, দুপুরের দিকে তারা একসঙ্গে সমুদ্রে গোসল করতে নেমেছিলেন। গোসলের একপর্যায়ে সায়েম সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। এ সময় তিনি সায়েমকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।
আরমান সাংবাদিকদের জানান, তারা দুই বন্ধু শনিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার শহরে আসেন। এরপর ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে দুজন কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ ঘুরতে যান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইনানী সৈকতের দক্ষিণ পাশে নৌবাহিনীর জেটি সংলগ্ন (পালংকী রেস্তোরাঁর সামনে) সৈকতে গোসলে নামেন। হঠাৎ বড় একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় তার বন্ধু সায়েম গভীর সাগরের দিকে ভেসে যান। নির্জন সৈকতে তখন লাইফগার্ড, পুলিশ কিংবা লোকজনের তেমন উপস্থিতিও ছিল না। পরে তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এরপর স্থানীয় জেলে, বিচ কর্মী এবং পরে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট এসে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি
ইনানী সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের ইনচার্জ বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতা ২৭ জন লাইফগার্ড কর্মী ও ৩৭ জন বিচ কর্মী রয়েছেন। কিন্তু কলাতলী থেকে দক্ষিণ দিকে হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, পাটোয়ারটেক, বাহারছড়া ও টেকনাফ সৈকত পর্যন্ত অবশিষ্ট ১১৫ কিলোমিটার অরক্ষিত সৈকতে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারে তেমন কেউ নেই। বৈরী পরিবেশে অরক্ষিত সৈকতে গোসলে নামতে নিষেধ করে প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু পর্যটকেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অরক্ষিত সৈকতে গোসলে নেমে বিপদে পড়ছেন।’
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফগার্ডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নিখোঁজ সায়েমের সন্ধান মেলেনি। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাগরে জোয়ার শুরু হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জোয়ার চলবে। লাইফগার্ড ও বিচ কর্মীরা রাতের বেলায় সৈকতে পাহারায় থাকবেন।’
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে গত ৩১ মে কক্সবাজার শহরের সিগাল সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন মো. আবির (১৮) নামের আরেক পর্যটক। ওই দিন দুপুরে আট বন্ধুর সঙ্গে তিনি সমুদ্রে গোসলে নেমেন। আবির রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসিন্দা ইলিয়াস মুন্সির ছেলে। পরের দিন ১ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে নাজিরারটেক সৈকতে আবিরের মরদেহ ভেসে আসে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, নিখোঁজ পর্যটককে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।



