নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বসতঘরের পাশের একটি জালে আটকা পড়েছে একটি বিষধর রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া)। পরে স্থানীয় লোকজন সাপটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার ৭ নম্বর তমরদ্দি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোরালিয়া পশ্চিমের চর আতাউর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভূমিহীনদের বসতবাড়ির পাশে পাতা একটি গিঁড়ার জালে সাপটি আটকা পড়ে। কিছুক্ষণ পর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এক নারী জাল থেকে ফোঁসফোঁস শব্দ শুনে ভয় পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাক দেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে জালে আটকে থাকা বিষধর সাপটি দেখতে পান এবং সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপ লোকালয়ে চলে আসার প্রবণতা বেড়ে যায়।
আতঙ্ক ও নিরাপত্তা শঙ্কা
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ দেখা দেয়। বসতবাড়ির এত কাছে এমন বিষধর সাপের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে।
বন বিভাগের মন্তব্য
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল জানান, নিহত সাপটি রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া, যা অত্যন্ত বিষধর এবং তুলনামূলকভাবে বিরল প্রজাতির। এর আগে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় এ সাপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। হাতিয়ায় উদ্ধার হওয়া আরেকটি রাসেলস ভাইপার জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে গবেষণার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ
নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ সব উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তাই সাপ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সাপে কামড় দিলে ঝাড়ফুঁক, ওঝার চিকিৎসা বা লোকজ পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। কামড়ের স্থানে তেল, মলম বা মালিশ ব্যবহার করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব।



