শিশুদের হাম ও জলবসন্ত: টিকার অপরিহার্যতা ও লক্ষণসমূহ
হাম ও জলবসন্ত বা চিকেন পক্স—দুটিই ভাইরাসজনিত রোগ যা শিশুদের মধ্যে সাধারণভাবে দেখা যায়। এই দুটি রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাম: লক্ষণ ও টিকার সময়সূচি
হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের মধ্যে হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- জ্বর: সাধারণত উচ্চ মাত্রার জ্বর দেখা দেয়।
- র্যাশ: লালচে দানার মতো র্যাশ জ্বরের তিন থেকে পাঁচ দিনের মাথায় শরীরে দেখা যায়।
- অন্যান্য উপসর্গ: মাথাব্যথা, কাশি, চোখ দিয়ে পানি ঝরা, শরীরে ব্যথা ও গলাব্যথা হতে পারে।
হামের জটিলতা হিসেবে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে এবং পরবর্তীতে এটি সাব–অ্যাকিউট স্ক্লেরোজিং প্যানএনসেফালাইটিস নামক মস্তিষ্কের ক্ষয় রোগের কারণ হতে পারে।
হাম প্রতিরোধের জন্য টিকা অত্যন্ত কার্যকর। শিশুদের জন্মের পর ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট ডোজ মেনে টিকা নিলে শিশুর শরীরে স্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে হামের বিরুদ্ধে ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, যা রোগের ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনে।
জলবসন্ত বা চিকেন পক্স: বৈশিষ্ট্য ও টিকা
জলবসন্ত হামের তুলনায় কম ভয়ংকর কিন্তু অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। এর লক্ষণগুলো হলো:
- জ্বর: সাধারণত কম মাত্রার জ্বর হয় যা এক-দুই দিনের মধ্যে চলে যায়।
- ফুসকুড়ি: মুখ ও শরীরে ফুসকুড়ির মতো র্যাশ ওঠে, যা তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে শুকিয়ে খোসা পড়ে যায়।
- চুলকানি: শুকানো র্যাশে তীব্র চুলকানি হতে পারে এবং চোখ ওঠার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
জলবসন্ত সাধারণত একবার হলে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে ভ্যারিসেলা নামক ভাইরাসের বিভিন্ন ধরনের কারণে পুনরায় সংক্রমণ হতে পারে।
জলবসন্ত প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভ্যারিসেলা টিকা। সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং চার থেকে ছয় বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সরকারি ইপিআই প্রোগ্রামে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকের পরামর্শে এটি নেওয়া যেতে পারে।
টিকার গুরুত্ব ও সতর্কতা
হাম ও জলবসন্তের টিকা দেওয়ার পরেও কিছু বিরল ক্ষেত্রে রোগ হতে পারে, তবে টিকা নেওয়া থাকলে রোগটি গুরুতর পর্যায়ে যায় না, জটিলতা কম হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস পায়। তাই শিশুদের জন্য নিয়মিত টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
মূলত, হাম ও জলবসন্তের টিকা শিশুদের সুস্থ ও সুরক্ষিত জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। অভিভাবকদের উচিত টিকার সময়সূচি মেনে চলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।



