গরম পড়তেই শিশুদের জ্বর ও পেটের সমস্যা বাড়ছে: কারণ ও প্রতিকার
মৌসুম বদলের এই সময়ে সর্দি-কাশি এবং জ্বরের প্রকোপ সাধারণ ঘটনা। তবে এবারের গরমে শিশুদের মধ্যে জ্বর ও পেটের সমস্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই অসুস্থতার মূল কারণ।
ভাইরাসের প্রকোপ ও লক্ষণ
বর্তমানে অ্যাডিনোভাইরাস, রোটাভাইরাস এবং নোরোভাইরাসের সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে জ্বর ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা তৈরি করছে। আগে কেবল অ্যাডিনোভাইরাসের কারণে জ্বর বা সর্দি-কাশি হতো, কিন্তু এখন এটি চরিত্র বদলেছে। রোটাভাইরাস ও নোরোভাইরাসের সংক্রমণে জ্বরের সঙ্গে পেটের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। পাঁচ বছরের নিচের শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রার ওঠানামা এবং ঝড়বৃষ্টির ফলে বাতাসে আর্দ্রতা হঠাৎ করে বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি জীবাণুদের বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই গরমে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরও বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বরের লক্ষণ ও সতর্কতা
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে জ্বর ও কাশির পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন:
- শ্বাসকষ্ট ও গলায় ব্যথা
- গাঁটে গাঁটে ব্যথা
- শরীরে পানিশূন্যতা
- বমি ভাব ও ডায়রিয়া
- চোখ ফুলে যাওয়া ও প্রচণ্ড ক্লান্তি
দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় বুক ধড়ফড় করা নিউমোনিয়ার উপসর্গ হতে পারে। অ্যাডিনোভাইরাসে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হলে গলা ও ঘাড়ের গ্ল্যান্ড ফুলে যেতে পারে, সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। রাইনোভাইরাস সংক্রমণে গলা ব্যথা ও শুকনো কাশি দেখা দেয়।
পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ
জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে দেখা যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর সাধারণত ২-৩ দিন থাকে, কিন্তু চার থেকে পাঁচ দিন পরও জ্বর না কমলে সতর্ক হতে হবে। নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করা উচিত:
- সিবিসি রক্তের পরীক্ষা
- সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট
- এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট
- ব্লাড কালচার (টাইফয়েড শনাক্ত করতে)
- চেস্ট এক্স-রে (বুকে ব্যথা থাকলে)
নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। জ্বর থাকলে হালকা প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে, সঙ্গে প্রচুর পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
বাবা-মায়েদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে। গরমের এই সময়ে সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া হলে অসুস্থতা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।



