ঢাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান, জরিমানা ও সচেতনতা বৃদ্ধি
ঢাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান, জরিমানা ও সচেতনতা

রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র সিদ্ধান্তে নবগঠিত টাস্কফোর্সের উদ্যোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জিগাতলা ও যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী খাল এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

মোবাইল কোর্টে জরিমানা ও লিফলেট সাঁটানো

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাস্কফোর্সের সভাপতি মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে এই অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে জিগাতলা এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ির ছাদ, বেইজমেন্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনের সময় দুইটি নির্মাণাধীন ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৭০ ধারা অনুযায়ী ভবনের প্রত্যেক মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ডেঙ্গুর লার্ভা থাকায় লাল কালি চিহ্নিত বিশেষ সতর্কতামূলক লিফলেট ভবনের প্রবেশপথে সেঁটে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি আবাসিক এলাকায় সতর্কতা

এ সময় গণপূর্ত অধিদফতরের বিভিন্ন সরকারি আবাসিক এলাকায় ডেঙ্গুর লার্ভা সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ ও ময়লা জমে থাকায় বাসিন্দাদের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয় এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলতে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের মীর শাহে আলম বলেন, “মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আমরা চাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি নাগরিক নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুক।” তিনি আরও জানান, জাতীয় কমিটির অধীনে এই টাস্কফোর্সের অভিযান রাজধানীজুড়ে অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখার বিনীত অনুরোধ জানান।

কুতুবখালী খাল পরিদর্শন

এছাড়াও যাত্রাবাড়ির দক্ষিণ কুতুবখালী খাল পরিদর্শনের সময় তিনি খাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

উপস্থিত কর্মকর্তারা

পরিদর্শনের সময় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।