পাটখেতে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার পাটখেত থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঘটনার তিন দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।’ শিশুটি তারাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিল। গত শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তারাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির দুই চোখে গুরুতর জখম ও ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া অবস্থায় ছিল। মাথার পেছনের ডান পাশে রক্ত জমাট বাঁধা ছিল। ডান হাতে কনুইয়ের নিচে আঁচড় ও ছেঁড়া জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ছাড়া ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে।
মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল পাটখেত
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে যে পাটখেতে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়, সেটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত। সেখানে প্রায়ই মাদক কেনাবেচা ও সেবন হয়। নির্জন হওয়ায় অপরাধীরাও এলাকাটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ ও যুবকেরা মোটরসাইকেলে সেখানে গিয়ে মাদক কেনাবেচা ও সেবন করেন। তাঁদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।
শিশুর মায়ের দাবি
হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি করেছেন শিশুটির মা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজ দুপুরে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে যে জানোয়ার মেরেছে, তার ফাঁসি চাই। সে যেখানেই থাকুক, তাকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’ পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় শিশুটি। এর আগে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে মা তাকে বকাঝকা করেছিলেন। এর পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।



