প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সব পেশাজীবী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন সরকারের পাশাপাশি এই বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেন।’ শুক্রবার বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল রক্তের রোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তের রোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে, যদি বাবা-মা উভয়েই থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক হন, তবে তাদের সন্তানদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই তিনি বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো পরীক্ষা করানো এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য
এবারের থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘গোপন নয় আর: খুঁজে বের করি অচিহ্নিতদের, সমর্থন করি অদেখাদের’। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া অ্যাসোসিয়েশন প্রতিবছরের মতো নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দিবসটি জনসচেতনতা ও প্রতিরোধ বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক
বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক বলে মনে করা হয়। ‘বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ‘প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা’ নীতি গ্রহণ করেছে, যা থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর।
ই-হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনকেন্দ্রিক ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে নিরলস কাজ করছে। নাগরিকদের জন্য রোগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য সম্বলিত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ই-হেলথ কার্ড চালু হলে নাগরিকরা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানতে পারবেন। একইসঙ্গে, রোগী গ্রামে বা শহরে যেখানেই চিকিৎসা নিন না কেন, চিকিৎসক ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য তথ্য দ্রুত জানতে পারবেন।
বিবাহের আগে সতর্কতার পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, দুই থ্যালাসেমিয়া রোগীর বৈবাহিক সম্পর্ক না হলে থ্যালাসেমিয়া রোগ ছড়ায় না। তাই থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য রক্তের রোগ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং থ্যালাসেমিয়া জিনবাহকদের মধ্যে বিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।



