রোববার সন্ধ্যা ও সোমবার ভোরে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের ফলে শহরের বাসিন্দারা স্বস্তি পেয়েছেন এবং বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। বৃষ্টি জমে থাকা ধুলা ও দূষক কণা ধুয়ে ফেলায় বাতাস লক্ষণীয়ভাবে পরিষ্কার ও সতেজ হয়ে উঠেছে।
বায়ুমান সূচকে ঢাকার অবস্থান
বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীগুলোর একটি ঢাকা, সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বায়ুমান সূচকে (AQI) ৪৭ স্কোর নিয়ে ৬৬তম অবস্থানে ছিল। AQI স্কেল অনুযায়ী, এই মাত্রা 'ভালো' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
দূষিত শহরের তালিকা
ভারতের দিল্লি, পাকিস্তানের লাহোর ও নেপালের কাঠমান্ডু যথাক্রমে ২৬০, ১৯২ ও ১৪৮ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
AQI স্কেলের ব্যাখ্যা
- ১০১-১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
- ১৫১-২০০: অস্বাস্থ্যকর
- ২০১-৩০০: খুব অস্বাস্থ্যকর
- ৩০১-এর বেশি: বিপজ্জনক, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে
বায়ুমান পরিমাপের পদ্ধতি
AQI প্রতিদিনের বায়ুর মান পরিমাপ করে, যা বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত তা নির্দেশ করে এবং জনগণের ওপর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাব উল্লেখ করে। বাংলাদেশে AQI গণনা পাঁচটি প্রধান দূষকের ভিত্তিতে করা হয়: বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড ও ওজোন।
ঢাকার বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে, যা সাধারণত শীতকালে আরও বেড়ে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে।



