গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে বাইরে বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়, ফলে সহজেই পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়। তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো হিট স্ট্রোক, যা জীবনহানির কারণ পর্যন্ত হতে পারে।
হিট স্ট্রোক কী এবং কেন হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রোদে থাকলেই হিট স্ট্রোক হয়—এ ধারণা সঠিক নয়। বদ্ধ, গরম ও আর্দ্র পরিবেশে দীর্ঘসময় থাকলেও এটি হতে পারে। এমনকি ঘরের ভেতরে, বসে বা শুয়ে থাকলেও এবং রাতেও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে।
শারীরিক প্রক্রিয়া
হিট স্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হতে পারে। শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের হতে না পারায় এই অবস্থা তৈরি হয়, ফলে রক্তনালি প্রসারিত হয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়।
লক্ষণসমূহ
- মাথা ঘোরা
- বুকে চাপ লাগা
- হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া
- মাথাব্যথা
কখনো রোগী দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে পড়ে যেতে পারেন এবং রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসা
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় নিতে হবে। সম্ভব হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখা ভালো। ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ভেজানো, কাপড় ঢিলা করে দেওয়া এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
প্রতিরোধের উপায়
হিট স্ট্রোক এড়াতে তীব্র রোদে, বিশেষ করে দুপুরে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে গেলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা ভালো এবং শরীর ঢেকে রাখা উচিত।
এসি থেকে বের হয়ে সরাসরি রোদে না গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা দরকার, যাতে শরীর বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
রোদে বের হলে সঙ্গে পানি রাখা উচিত এবং নিয়মিত পান করা জরুরি। ওআরএস পান করলে আরও উপকার পাওয়া যায়। দীর্ঘসময় রোদে না থেকে মাঝে মাঝে ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া উচিত।



