হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, দুই সপ্তাহে উন্নতির আশা
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, দুই সপ্তাহে উন্নতি

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। সংস্থাটি হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে হামের পরিস্থিতি উন্নত হবে।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ১৫ মার্চ থেকে হামে আক্রান্তের হার ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩ জন। ঢাকায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে ঘনবসতি ও বস্তি এলাকায়, বিশেষ করে ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায়। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৭৪৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৫১৪ এবং খুলনা বিভাগে ১ হাজার ৫৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।

শিশুদের মধ্যে উচ্চ ঝুঁকি

আক্রান্তদের মধ্যে এক থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের ৯১ শতাংশের বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল পর্যন্ত) হামে ও হামের উপসর্গে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৫ জন। মৃত সাত জনের মধ্যে তিন জন হামে এবং চার জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৃত্যুর সংখ্যা ও টিকাদানের ঘাটতি

১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১৯৮ জন শিশু মারা গেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হামের পরিস্থিতি জাতীয়ভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মূল্যায়ন করেছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশাল সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের অভাবে ও রোগপ্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ঘটনাবলির আলোকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংক্রমণের বিস্তার

দেশে হামের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বৃদ্ধি দেশের ভেতরে চলমান সংক্রমণের কারণে। জানুয়ারি থেকেই হাম রোগীর সংখ্যা স্পষ্টভাবে বাড়তে শুরু করে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আটটি বিভাগেই রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় (৯১ শতাংশ) রোগী পাওয়া গেছে, ফলে সংক্রমণ এখন জাতীয়ভাবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

টিকাদান কর্মসূচি বন্ধের প্রভাব

সন্দেহভাজন ১৬৬টি শিশুর মৃত্যুর তথ্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা প্রধানত টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, 'চার বছর পর বুস্টার ডোজ বা এক ডোজ টিকার জন্য দেশে ক্যাম্পেইন করা হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে এই ক্যাম্পেইন করা হয়নি। এ টিকা দেওয়াও বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে এই টিকাদান কর্মসূচিই বন্ধ থাকে।' এ কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে কর্মকর্তা জানান।