খাবার হজম হওয়ার পর যে বর্জ্য তৈরি হয়, তা ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে বৃহদান্ত্রে পৌঁছায়। এরপর তা রেকটামে জমা হয় এবং চাপ তৈরি হলে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকে 'গাট ট্রানজিট টাইম' বলা হয়। এটি কত ধীর বা দ্রুতগতিতে হচ্ছে, তার ওপর আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য কী এবং কেন হয়?
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তখনই দেখা দেয়, যখন পর্যাপ্ত পানি ও ফাইবারজাতীয় খাবার খাওয়া হয় না। এতে হজম স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। গবেষণা বলছে, কোলনে কতক্ষণ মল জমে থাকছে, তা স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। মল যত বেশি শক্ত হয়, গাট ট্রানজিট টাইমে তত বেশি সময় লাগে।
মল জমে থাকার সময়কাল
সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত মল শরীরে থাকতে পারে। এর বেশি সময় থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। আবার এর চেয়ে কম সময়ে মল বেরিয়ে গেলে ডায়রিয়া হয়।
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
মল ধীরগতিতে চলাচল করলে অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের গঠন বদলে যায়। এতে মেটাবলিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হয় এবং শরীরে প্রদাহ বাড়ে। দীর্ঘক্ষণ মল জমে থাকলে অ্যামোনিয়া ও ফেনলের মতো ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হয়, যা অন্ত্রের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
সম্ভাব্য গুরুতর রোগ
- কোলোরেক্টাল ক্যানসার
- ব্রেস্ট ক্যানসার
- পার্কিনসনস ও অ্যালঝেইমার্সের মতো স্নায়বিক রোগ
- হৃদরোগ ও কিডনি রোগ
- ডায়াবেটিস ও ওবেসিটি
হজম স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার খাওয়া উচিত। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, দানাশস্য রাখুন। দই, ইডলি, দোসার মতো প্রোবায়োটিক খান। দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং প্রতিদিন মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন।



