গরমে সুস্থ থাকতে বাইরে গেলে ছাতা ও পানি সঙ্গে রাখার গুরুত্ব
গরমের দিনে বাইরে বের হলে সুস্থ থাকতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই সময়ে পানি আপনার পরম বন্ধু হিসেবে কাজ করে, তাই বাইরে গেলে পানি সঙ্গে রাখা উচিত। তবে যেখানে–সেখানে পানি বা পানীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ রাস্তার লেবুপানি বা আখের রসের মাধ্যমে নানা রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পানি সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি
গরমে প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। এর পরিবর্তে ধাতব বোতল বা থার্মোফ্লাস্ক ব্যবহার করতে পারেন, যা দীর্ঘ সময় পানির ঠান্ডা ভাব বজায় রাখে। যদিও দাম একটু বেশি, তবে এই ফ্লাস্ক স্বাস্থ্যকর এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। পানি ভরার সময় প্রথমে কিছু বরফ নিয়ে নিন, তারপর পানি ভরে ফেলুন, এতে পানি লম্বা সময় ঠান্ডা থাকবে। বাইরে থেকে ফিরে বোতল পরিষ্কার করে রাখা ভালো।
ঠান্ডা পানি খাওয়ার সতর্কতা
গরমের মধ্যে একেবারে বরফঠান্ডা পানি খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঠান্ডা পানি খেতে চাইলে রোদ থেকে ছায়ায় গিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করুন আগে। পানি বা ফ্লাস্ক সরাসরি রোদে না রাখাই ভালো, যাতে এর গুণাগুণ বজায় থাকে।
পোশাক ও অনুষঙ্গের গুরুত্ব
গরমে হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, যা ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দেবে। রোদ ও ধুলা-ময়লা থেকে বাঁচতে চুল ও শরীর ঢেকে রাখুন। সাদা বা হালকা রঙের ফুলহাতা জামা এবং ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরলে গরমে আরাম পাবেন। ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করুন এবং চুল বড় হলে গুছিয়ে বেঁধে রাখুন। ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাও উপকারী।
সঙ্গে রাখুন এসব জিনিস
ব্যাগে সানস্ক্রিন সামগ্রী রাখুন এবং নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর তা প্রয়োগ করুন। ভালো মানের একটি ছাতা রাখুন, যা রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। ছোট, রিচার্জেবল ফ্যান রাখতে পারেন, যা সহজে বহনযোগ্য। ঘাম হলে যত দ্রুত সম্ভব মুছে ফেলুন, এবং সঙ্গে রুমাল রাখা ভালো, কারণ টিস্যু পেপারের চেয়ে রুমাল দিয়ে ঘাম মোছা সহজ। এছাড়া ভেজা টিস্যু বা একটি ছোট স্প্রে বোতল রাখতে পারেন, যা মুখ ভেজানোর জন্য কাজে আসে।
খাবারের দিকেও নজর দিন
দূরে কোথাও গেলে এমন স্ন্যাকস রাখুন ব্যাগে, যা সহজে পচে যায় না। ফলমূল নিতে পারেন, যা পানির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। গরমে সুস্থ থাকতে এই টিপসগুলো মেনে চললে আপনি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর থাকতে পারবেন।



