স্বাস্থ্যমন্ত্রী: হামের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই, টিকাদান কর্মসূচি চলছে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, একটি বাচ্চা মারা যাওয়ার পরপরই আইসিইউর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতা ও বর্তমান পদক্ষেপ
মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো আমাদের কাছে কোনো ভ্যাকসিন রেখে যায়নি। ফলে সরবরাহ লাইন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত গ্যাভি ও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করেছে এবং এই মাসের ৫ তারিখ থেকে চিহ্নিত ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। আজ থেকে সারা দেশে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে।
মহামারি নয়, নিয়ন্ত্রণে আসবে শীঘ্রই
কবে নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একটি দুর্যোগ কত দিনে কমে আসবে, তা বলা মুশকিল। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, ভ্যাকসিনেশন অব্যাহত থাকলে সব শিশুকে টিকা দেওয়া শেষ হলে রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এখনকার অবস্থা মহামারি বলা যাবে না। ঢাকায় হামের প্রাদুর্ভাব কম এবং হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীরা অন্যান্য জেলা থেকে আসছে। তিনি ঢাকাতেও টিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে বলে জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কে অবস্থিত লিট অ্যাঞ্জেল সেমিনারি কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
- স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া
- ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব কমিশন মেগান বোল্ডিন
- ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এম্মানিউলি এবরিউকস
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজেশ নরওয়েল
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস
- জেলা প্রশাসক রায়হান কবির
- জেলা সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান
মন্ত্রী শেষে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতায় ও নির্দেশনায় এ সরকার হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। শুধু ওষুধ দিয়ে মানুষকে ভালো করা যাবে না, নিজেকেও সচেতন হতে হবে।



