শামারুহ মির্জার পোস্টে হামের টিকা বিতর্ক: নেপথ্যে কুসংস্কার
শামারুহ মির্জার পোস্টে হামের টিকা বিতর্ক: নেপথ্যে কুসংস্কার

দেশজুড়ে ফের ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মারণ রোগ হাম। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে হাজারও শিশু, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। তবে এই শোচনীয় পরিস্থিতির পেছনে শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এক গভীর টিকাবিরোধী ষড়যন্ত্রকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শামারুহ মির্জার ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. শামারুহ মির্জার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জনস্বাস্থ্য মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। শুক্রবার দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দেশের টিকাকরণ ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ

ড. শামারুহ মির্জা তার পোস্টে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক গাফিলতি তো আছেই, তবে আসল সমস্যা আরও গভীরে। তিনি বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে ইসলামের দোহাই দিয়ে টিকার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে ভয়, ভীতি ও অনাস্থা ছড়ানো হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজ্ঞানী মির্জার অভিযোগ, ধর্মের নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করে মানুষকে বিজ্ঞানসম্মত জীবনধারা ও আধুনিক চিকিৎসা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।

কুসংস্কার ও বিকৃত মানসিকতা

তিনি আরও লেখেন, বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে অস্বীকার করে ধর্মের নামে কুসংস্কার ছড়ানো হচ্ছে, যার ফল এখন চোখের সামনে। আবেগঘন ওই পোস্টে তিনি সমাজে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভয়ংকর প্রবণতার দিকেও আঙুল তোলেন।

ড. শামারুহ মির্জা দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নারীদের ফিটনেস ও স্তন্যপান করানোর মতো স্বাভাবিক বিষয়গুলোকে হামে শিশুমৃত্যুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছে। সমাজে বিজ্ঞানমনস্কতার পরিবর্তে কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দিয়ে এক ধরনের বিকৃত মানসিকতা ছড়ানো হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টিকাদানে ভাটা, শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার

এক সময় টিকাদানের সফলতায় বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল ছিল এবং হামের প্রকোপ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক ডামাডোলে জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচিতে মারাত্মক ভাটা পড়েছে। ফলে ফের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়েছে দেশের হাজার হাজার শিশু।