সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। সংগঠনটির দাবি, এ ঘটনায় সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা ও ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
যৌথ বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ
শুক্রবার (১৫ মে) দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সামিউল হক চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেন। তারা বলেন, যখন দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যাচ্ছে, তখন সরকার জরুরি স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলে বেশি ব্যস্ত।
সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “ক্ষমতার কৌশলী মোড়কে সরকার আজ জনস্বার্থকে বন্দি করে ফেলেছে। আমেরিকা-ইজরাইল মিলে ইরানে যত শিশু হত্যা করেছে, দেশে তার চেয়ে বেশি শিশু কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির সরকারও আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারছে না, যা চরম লজ্জার।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে হামের মতো অসুখে শিশুর মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য দূর দূরান্ত থেকে ঢাকায় আনতে হয় এবং তারপরও বাঁচানো যাচ্ছে না - এটা সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতের দূর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
টিকাদান কর্মসূচিতে অবহেলার অভিযোগ
নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, “সরকার টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এবং প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক বয়ান তৈরি এবং দোষারোপের রাজনীতিতে নিজেদের সমস্ত শক্তি ব্যয় করছে। এটা এক ধরণের লাশের রাজনীতি। হাম এবং হামের উপসর্গে এরই মধ্যে ৪০০ এর বেশি শিশু হত্যার দায় এই সরকার কোনমতেই অস্বীকার করতে পারে না।”
জরুরি পদক্ষেপের দাবি
তারা অবিলম্বে সব শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত, হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া এলাকায় ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন এবং প্রান্তিক পর্যায়ে শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অডিট এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বানও জানানো হয়।



