গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিশু ও নারীসহ আরো নয়জন। একের পর এক মৃত্যুর কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আহতদের পরিবারের সদস্যরা।
মৃত্যুর বিবরণ
বুধবার সকালে মারা যান উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৯)। সোমবার রাতে মারা যান একই এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী আফরুজা বেগম (৪০)। গত শুক্রবার মারা যান পার্শ্ববর্তী পূর্ব ছাপরহাটী গ্রামের খোকা বর্মণের ছেলে রতনেশ্বর বর্মণ (৫০)। সর্বপ্রথম গত বৃহস্পতিবার মারা যান কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫) ও নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২)।
আহত ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা
অসুস্থ নয়জন হলেন: ঐ ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতন নেছা, আশরাফুল আনন্দের স্ত্রী রুমিনা বেগম, লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত উমিতুল্লাহ বেপারীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী গোলেনুর বেগম, মনসুর আলীর মেয়ে মিতু আক্তার, শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর মিয়া, খাইরুল ইসলামের মেয়ে লাবন্য আক্তার ও আনিছুর রহমানের ছেলে বিজয় হোসেন। তারা কেউ হাসপাতালে, আবার কেউ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত
এলাকাবাসী জানান, গত ২২ এপ্রিল সকালে একটি বেওয়ারিশ কুকুর বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে আকস্মিক একাধিক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হন। পরে তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে ভ্যাকসিন না পেয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। সেখানেও ভ্যাকসিন নেই বলে তাদের জানানো হয়। পরে বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন। তবে ততক্ষণে অনেকেরই ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা সময় পেরিয়ে যায়।
নিহত সুলতানা বেগমের পরিবারের বক্তব্য
নিহত সুলতানা বেগমের ছেলে আল আমিন জানান, গত ২২ এপ্রিল কুকুর তার মায়ের কানের নিচে গলায় কামড় দেয়। পরে তার মাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত লোকজন তাদের জানান, ভ্যাকসিন নেই। পরে বাইরে থেকে কিনে এনে তার মাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, এরপরও তিনি আরো অসুস্থ হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গত চার দিন আগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তখন থেকে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই ছিলেন। বুধবার দুপুরে বাড়িতেই তিনি মারা যান।
স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানান, গত ২২ এপ্রিল কুকুরে কামড়ানো ঐ ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেননি। এছাড়া ঐ সময় হাসপাতালে ভ্যাকসিনও ছিল না। সম্প্রতি ভ্যাকসিন কেনার জন্য মাত্র ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলে কুকুরের কামড়ানো ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। তবে ভ্যাকসিনগুলোর মেয়াদ কিংবা কার্যকারিতা ছিল কি না, এটাও জানা প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, ভ্যাকসিনের বিষয়টি সিটি করপোরেশন এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয় দেখভাল করে। তাদের টিমও আছে।



