আপনার পা হৃদরোগের আগাম ইঙ্গিত দিতে পারে। পায়ের কিছু নির্দিষ্ট পরিবর্তন বা লক্ষণ দেখে হৃৎপিণ্ডের গুরুতর সমস্যা কিংবা হার্টের বিপদ আঁচ করা সম্ভব। তবে পা দেখে সরাসরি হার্টের রোগ ধরা যায় না। কিন্তু পায়ের কিছু লক্ষণ শরীরের রক্ত চলাচলের সমস্যার কথা জানায়, আর এ সমস্যার সঙ্গে হৃদরোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
পায়ের লক্ষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও বাস্তবেই কিছু ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে। আমাদের শরীরের নিচে অবস্থিত হওয়ায় হার্ট যদি ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারে, তবে তার প্রভাব সবার আগে পায়েই প্রকাশ পায়। তাই হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ঠিকমতো পায়ে পৌঁছাতে না পারলে তার প্রভাব সবার আগে এখানেই দেখা যায়। ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল কমে গেলে যে সমস্যা হয়, তাকে বলা হয় পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ। এ রোগ থাকলে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?
হাঁটার সময় যদি পায়ে টান ধরে কিংবা ব্যথা হয়, একটু হাঁটলেই যদি পা ক্লান্ত লাগে— এগুলো সাধারণ ক্লান্তি নাও হতে পারে। আবার যদি দেখেন পা সবসময় ঠান্ডা লাগছে, ত্বকের রঙ ফ্যাকাশে কিংবা নীলচে হয়ে যাচ্ছে কিংবা পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব হচ্ছে, তাহলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো— পায়ে কোনো কাটা কিংবা ঘা হলে তা অনেক দিনেও না শুকানো।
পা ফোলা কি হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণ?
অনেক সময় পা বা গোড়ালি ফুলে যায়। এটিও হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। যখন হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন আপনার শরীরে পানি জমতে শুরু করে, আর তার প্রভাব পায়ে ফোলার মাধ্যমে দেখা যায়।
শুধু পা দেখেই কি বুঝবেন?
তাহলে কি শুধু পা দেখেই বুঝে যাবেন আপনার হার্টে সমস্যা আছে? ঠিক তেমনটি না, এত সহজ নয়। তবে পায়ের এ ছোট ছোট পরিবর্তনকে আপনার শরীরের 'সতর্কবার্তা' হিসেবে ধরতে পারেন। অনেক সময় বড় রোগের আগেই এ লক্ষণগুলো দেখা দেয়।
প্রতিরোধ ও করণীয়
এ ক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটাচলা কিংবা হালকা ব্যায়াম করুন, ধূমপান এড়িয়ে চলুন, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পায়ে যদি অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য দেখেন, তবে তা অবহেলা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ পা সরাসরি হৃদরোগ ভবিষ্যদ্বাণী করে না; কিন্তু আপনার শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই পায়ের যত্ন নিন, আর ছোট লক্ষণকেও গুরুত্ব দিন। তাহলেই বড় বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।



