রাঙামাটিতে শ্মশান থেকে উদ্ধার নবজাতক, সন্ধ্যা রানীর স্নেহে আশ্রয়
রাঙামাটিতে শ্মশান থেকে উদ্ধার নবজাতক, আশ্রয় সন্ধ্যা রানীর

রাঙামাটিতে শ্মশান থেকে নবজাতক উদ্ধার, সন্ধ্যা রানীর মানবিকতা

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় এক মর্মস্পর্শী ঘটনায় শ্মশানের পাশ থেকে একটি নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাগলখাইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা সন্ধ্যা রানী শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন, যা আজ শনিবার সকালে হাসপাতালে নেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

শিশু উদ্ধারের বর্ণনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটিকে প্রথমে দেখতে পায় সন্ধ্যা রানীর ১৩ বছর বয়সী ছেলে শ্রীকান্ত দে। সে শ্মশানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না শুনে তদন্ত করে নবজাতকটিকে আবিষ্কার করে। শ্রীকান্ত দে মুঠোফোনে বলেন, ‘শ্মশানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শিশুটিকে দেখতে পাই। সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। পরে আমি বাড়িতে এসে বিষয়টি জানাই। পরে মা গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।’ শিশুটির আনুমানিক বয়স সাত দিন, এবং তাকে রক্তমাখা অবস্থায় পাওয়া যায়, যেখানে লাল পিঁপড়া কামড়াচ্ছিল।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও চিকিৎসা

বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য থুইচিংমং মারমা জানান, শিশুটিকে সন্ধ্যা রানীর বাড়িতে রাখার পর আজ শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরিত্যক্ত অবস্থায় শিশুটিকে সন্ধ্যা রানীর ছেলে শ্রীকান্ত দে দেখেছিল। গতকাল শিশুটিকে তাদের বাড়িতে রাখা হয়। পরে আজ শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মো. নেজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া একটি কন্যাশিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটিকে হাসপাতালে রেখেই দেখাশোনা করা হচ্ছে। সে বর্তমানে কিছুটা সুস্থ।’ শিশুটির স্বাস্থ্য অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে, এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দত্তক প্রক্রিয়া ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘উদ্ধার করা শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য অনেকে আবেদন করছেন। শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে দত্তক দেওয়া হবে।’ এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং অনেকেই শিশুটির জন্য সহানুভূতি ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

সন্ধ্যা রানীর মানবিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে, যা একটি পরিত্যক্ত শিশুর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে।