কামরাঙ্গীরচরে হোস্টেলের শৌচাগারে শ্রমিকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি হোস্টেলের শৌচাগার থেকে এক শ্রমিকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম ইয়াকুব আলী, যিনি বয়সে মাত্র ২৫ বছর ছিলেন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে ওই হোস্টেলে অবস্থান করতেন।
ঘটনার বিবরণ
গত বুধবার মধ্যরাতে ইয়াকুব আলীর সহকর্মীরা তাঁকে শৌচাগারে অচেতন অবস্থায় পান এবং দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ইয়াকুব আলী ম্যাটাডোর গ্রুপে কাজ করতেন এবং তাঁর হোস্টেলের পাশেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় অবস্থিত ছিল।
ইয়াকুব আলীকে হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক বজলুর রহমান। তিনি জানান, শৌচাগারের দরজা খোলা ছিল এবং সেখানে দুটি ব্লেড পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কীভাবে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন ইয়াকুব আলীর বড় ভাই মো. আরফান। তিনি বলেন, মরদেহ দেখে তাঁর মনে হয়েছে, ইয়াকুবকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইয়াকুব ছিলেন সবার ছোট এবং পরিবার এই ঘটনায় গভীর শোকে আচ্ছন্ন।
পুলিশের তদন্ত
কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক বৃহস্পতিবার সকালে জানান, সহকর্মীদের কাছে ইয়াকুব আলী তাঁর শরীর খারাপের কথা বলেছিলেন। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা তদন্ত শেষ করে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার কারণ ও প্রকৃতি নির্ধারণে তদন্ত জোরদার করেছে।
এই ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুত তদন্ত শেষ করে সত্যতা উদ্ঘাটন করা হবে।



