গাইবান্ধায় হোটেল কর্মচারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, দাম্পত্য কলহের সন্দেহ
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একটি ভাড়া বাসা থেকে নাজমুল ইসলাম (৪০) নামে এক হোটেল কর্মচারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় লাশটি পাওয়া যায়, যা আত্মহত্যার ইঙ্গিত বহন করছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের বাগদা হাট এলাকার মিশন রোডের ওই ভাড়া বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের তথ্য
নাজমুল ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চক মহাদেবপুর গ্রামে। তিনি আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে হিসেবে পরিচিত এবং পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী ছিলেন। নাজমুল তার স্ত্রীকে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন, যা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রবিবার রাতে হোটেলের কাজ শেষে নাজমুল ইসলাম স্বাভাবিক নিয়মে বাসায় ফিরেছিলেন। ওই সময় বাসায় তার স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না, যা পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে। সোমবার সকালে প্রতিবেশীরা শয়নকক্ষের জানালার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় নাজমুলকে ঝুলতে দেখে ভয় পেয়ে যায় এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেয়।
দাম্পত্য কলহের অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সরাসরি জানিয়েছেন যে, নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকতো, যা পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা উল্লেখ করেছেন যে, দুদিন আগে এক তীব্র ঝগড়ার পর নাজমুলের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান, এবং এই ঘটনাই নাজমুলের আত্মহত্যার পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করার পর আমরা তা ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা, তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হবে।’
এই ঘটনা গাইবান্ধা অঞ্চলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং স্থানীয়রা পারিবারিক কলহের পরিণতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। পুলিশ এখন ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে, যা নাজমুল ইসলামের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



