হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের
হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চালুর পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনের নবম দিনে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদরের মদনপুর পয়েন্টে বাঁশ ও চেয়ার ফেলে তারা সড়ক অবরোধ করেন। এতে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের তিনটি পয়েন্টে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের দাবি ও বক্তব্য

আন্দোলনরত মেডিকেল শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের অনেকের পড়াশোনা শেষ হওয়ার পথে। হাতে কলমে চিকিৎসক হওয়ার জন্য জরুরি ক্লিনিক্যাল বা ওয়ার্ড ক্লাস তারা পাচ্ছেন না। ডাক্তার হওয়ার জন্য ইন্টার্নশিপ করার সুযোগও নেই। শুধু পুস্তুকি ডিগ্রি নিয়ে তারা অথর্ব হচ্ছেন। এ কারণে তারা বাধ্য হয়ে ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমেছেন। তাদের দাবি আদায় না হলে আমরণ কর্মসূচি চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু কার্যক্রম চালু হয়নি। গত বছর (২০২৫) আন্দোলন করলে সরকার এক বছরের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেয়, যা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে জেলার সর্বস্তরের মানুষ একমত পোষণ করেছেন বলে তারা জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বক্তব্য প্রদানকারী শিক্ষার্থীরা

এ সময় বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফাত রেজা আকাশ, দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাকিব, পিয়াস চন্দ্র দাস, ফারহানা আহমেদ মিম, তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিনা খানম ঐশি, তামিমা হোসেন, চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইনহা ইব্রাহিম, পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফজলে ফারিয়া সিনথিয়া, ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী আকশা চৌধুরী ও রেহেনা খাতুন প্রমুখ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সর্বস্তরের মানুষের সংহতি

সুনামগঞ্জ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। সুনামগঞ্জ জেলা সুজন’র সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ জানান, মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ শহর থেকে সুজন নেতারা একটি টিম অবরোধস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। জেলার মানবাধিকার কর্মী ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে পুরো জেলাবাসী একমত। এখানে হাসপাতাল চালুর দাবি শুধু তাদের নয়, এটা সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণের দাবি।’