হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৩ শিশু মারা যায়।
মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৪৫ শিশু মারা গেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২৮। অর্থাৎ মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবই এর প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান বলেন, 'হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক সময়ে টিকা নিলে এটি থেকে বাঁচা সম্ভব। আমরা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার চেষ্টা করছি।' তিনি আরও বলেন, 'অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।'
টিকাদান কর্মসূচির অবস্থা
বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধে দুই ডোজ এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। তবে করোনা মহামারির কারণে অনেক শিশু টিকা পায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে টিকাদানের হার ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ২০১৯ সালে ছিল ৯৩ শতাংশ।
সরকারের উদ্যোগ
সরকার হাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় টিকাদান ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া স্কুল ও কমিউনিটি ভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, 'হাম নির্মূলে আমরা কাজ করছি। টিকা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'
সতর্কতা ও করণীয়
চিকিৎসকরা বলছেন, হামের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়। শিশুদের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। হাম আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত তরল ও বিশ্রাম দিতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে।



