নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গুজিরকোনা ইউনিয়নে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে একটি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৮ জুন নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
গুজিরকোনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
১৯৬৪ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গুজিরকোনা ইউনিয়নে তৃণমূল পর্যায়ে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এলাকার তৎকালীন চেয়ারম্যান সব্দুল তালুকদারের স্ত্রী কদরেন্নেছা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১ একর ৩ শতক জমি দান করেন। ১৯৬৫ সালে তৎকালীন সরকার একতলা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণ করে, যা আশপাশের প্রায় তিন ইউনিয়নের মানুষকে সেবা প্রদান করে।
স্বাধীনতার পর থেকে সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের। গুজিরকোনা, বাকলজোড়া ও কাকৈরগড়া ইউনিয়ন এবং নেত্রকোনা সদর উপজেলার একাংশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র মাধ্যম এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কিন্তু জনবল সংকট ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছিল।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের পথে
চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইনকালে স্থানীয়রা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে একটি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান। এলাকার মানুষকে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যেতে হতো, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কষ্টসাধ্য ও আর্থিকভাবে সম্ভব ছিল না। কায়সার কামাল তখন প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে উন্নীত করে অন্তত ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করবেন।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর কায়সার কামাল নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি গুজিরকোনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের জন্য চিঠি দেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের জন্য চিঠি প্রেরণ করেন।
সিভিল সার্জনের পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
গত ২৮ জুন নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন। তিনি বলেন, “প্রথমে ডেপুটি স্পিকার স্যারকে ধন্যবাদ দেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। প্রথমে এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের চিন্তা করা হয়েছিল। যেহেতু বিস্তর জায়গা ও মানুষের চাহিদা রয়েছে, সেহেতু এখানে ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। আমি ডেপুটি স্পিকার স্যারের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করব।”
গুজিরকোনা বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “যেহেতু অধিকাংশ জনগণ এখনো গ্রামে বসবাস করি, সেহেতু গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পিছিয়ে রেখে কোনোভাবেই সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। অবহেলিত অত্র এলাকায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের যে উদ্যোগ নিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যার, আমরা অত্র এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞ থাকব।”
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, “মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা উল্লেখযোগ্য। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অত্র এলাকার অবহেলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, আর্থিক অনুদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, অসুস্থ রোগীদের ও দৃষ্টিহীনদের চিকিৎসা করানো, আশ্রয়হীনদের জন্য ঘর বিতরণ করে সাধারণ মানুষের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আর কোনো সংসদ সদস্যই করতে পারেননি। ধন্যবাদ জানাই ডেপুটি স্পিকারকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।”
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
পরিদর্শনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল ওমর ফারুক, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান, মো. রফিকুল ইসলাম, আব্দুল মালেক তালুকদার, মো. আব্দুস সাত্তার মাস্টার, আনোয়ার হোসেন খলিফা, মনিরুজ্জামান আব্বাসী, সাংবাদিক সজিম সাইন, ইপিআই কর্মকর্তা সুব্রত চক্রবর্তীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



