প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিক্ষার সুযোগ অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ তৈরি হবে। আজ রোববার রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’–এর ঢাকা জেলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ
ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে ঢাকার মোট ৩৭টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রথম হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, দ্বিতীয় হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং তৃতীয় হয়েছে হলি ক্রস কলেজ। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জুবাইদা রহমান।
শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ
জুবাইদা রহমান বলেন, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার শিক্ষার অধিকার রয়েছে। শিক্ষার সুযোগকে অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেলে প্রতিভা অন্বেষণ ও উপযুক্ত সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ করা যাবে। তিনি দেশের প্রান্তিক এলাকার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র তুলে ধরে বলেন, তারপরও কিন্তু শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নেওয়া থামায়নি। হয়তো তাদের মধ্যেই কেউ হবে বাংলাদেশের নাম বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল করা ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জুবাইদা রহমান বলেন, অসাধারণ সাফল্য যেন তোমাদের জীবনকে আলোকিত করে, সেই আলোর আলোকচ্ছটায় আগামীর বাংলাদেশ যেন বিশ্বে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো প্রতীয়মান হয়। অনুষ্ঠানে তিনি প্রতিযোগী দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ধারণা নেন।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আমরা আর চাই না সেই পুরোনো দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।...আমরা সৃজনশীল লেখাপড়া আনব, আমরা বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা করব।’ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, সারা দেশে এ প্রতিযোগিতায় ৬৪ জেলা থেকে ১২ হাজার দল অংশ নিয়েছে। এতে অংশ নেন প্রায় ৩৬ হাজার ছাত্রছাত্রী এবং প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষক। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বেশি সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা দক্ষ ও যোগ্য হয়।
আয়োজন ও পরবর্তী ধাপ
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিএএফ শাহীন কলেজের ছাত্রী আয়াত সিমরান ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র মো. শাফায়েত বিশ্বাস। অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী এবং সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক খুঁজে বের করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের উদ্যোগে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী এই উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। তাতে প্রতিটি উপজেলা থেকে সেরা একটি দল এবং মহানগর এলাকার শিক্ষা থানা থেকে সেরা দুটি দল আজ জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। একেকটি দল গঠিত হয় তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষকের সমন্বয়ে।
সারা দেশে জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতা থেকে বাছাই করা হচ্ছে সেরা ১০০টি দল। তাদের নিয়ে ২৮ জুন রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়া দলগুলো তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে নির্বাচিত হবে সেরা ১০টি দল। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা পাবে ২০ হাজার টাকা ও সনদ। আর বিজয়ী শিক্ষকেরা পাবে ৩০ হাজার টাকা ও সনদ।



